‘মার্কিন-সৌদি লবিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ একটি গুরুতর ভুল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধান বর্ণিত জোট নিরপেক্ষ নীতি ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।

বিবৃতিতে সিপিবি নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল এবং হানাদার বাহিনীকে অস্ত্র, অর্থ, কূটনৈতিক মদদ দিয়ে সহায়তা করেছিল। এমনকি স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং সৌদি সরকার বর্তমানেও জামায়াত-শিবিরসহ স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির মদদদাতা হিসেবে সক্রিয় রয়েছে। তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যে দ্বন্দ্ব-বিভেদ-বিভাজন তার মধ্যে মার্কিন-সৌদি লবিতে বাংলাদেশ নিজেকে এভাবে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে মার্কিন সৌদি সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। এ লক্ষ্যে সোচ্চার হওয়ার জন্য সব দেশপ্রেমিক, প্রগতিবাদী শক্তি ও জনগণের আহ্বান জানিয়েছে সিপিবি।

সাইফুল হক
‘বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত সংবিধান ও পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী’

একইরকম মনোভাব ব্যক্ত করে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, বাংলাদেশের এ সিদ্ধান্ত আমাদের সংবিধান ও ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য আরব দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপেড়েন দেখা দেবে এবং সেসব দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকূচিত হবে।

‘মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে কারো পক্ষে সামরিক জোটে যোগ দেয়া উচিত নয়’

এ প্রসঙ্গে, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ বলেন, আমাদের ঘেষিত নীতি- কারো প্রতি শত্রুতা নয়, সবার প্রতি বন্ধুত্ব- এটা অনুসরণ করে একটি মুসলিম দেশ হিসেবে ইসলামী উম্মাহ’র প্রতি দায়িত্ব পালন করা দরকার। মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে কারো পক্ষে সামরিক জোটে যোগ দেয়া উচিত নয়।

মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হবার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দু’টি ব্যাটালিয়নে প্রায় ১৮০০ সদস্য সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিদ্ধস্ত এলাকায় মাইন অপসারণ কাজে নিয়োজিত হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহীনি প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ- এর বরাত দিয়ে রোববার রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবে সফরে গিয়ে সৌদি আরবের যৌথ বাহিনীর প্রধান ফায়াদ আল রুয়ায়লির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান রিয়াদে সৌদি আরবের সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আয়েশের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

পরে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিদ্ধস্ত এলাকায় মাইন অপসারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিও প্রস্তুত করা হয়েছে।

সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ আরও জানান, সৌদি আরবের ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশনে (আইএমসিটিসি) বাংলাদেশ থেকে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ চার জন কর্মকর্তাকে নিয়োগের জন্য নাম দেওয়া হয়েছে। এই কোয়ালিশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সৌদি আরবের সামরিক কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সৌদি আরবের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা বাংলাদেশে মিলিটারি একাডেমি, ডিফেন্স কলেজ ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৬

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন