অবশেষে জামায়াত আমিরের পদত্যাগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগের পর এবার দলের আমির মকবুল আহমদের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে দলের নেতারা বলছেন অন্যকথা। গত রবিবার সন্ধ্যায় গুজব ছড়িয়ে পড়েছে জামায়াতের আমির মকবুল আহমদ পদত্যাগ করেছেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য দলের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিমের মোবাইল ফোনে একাধিকার কল দিলেও তারা রিসিভ করননি।

একটি সূত্র জানায়, গত রবিবার দলীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে মকবুল আহমদ আর আমির পদে থাকছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার শুরা সদস্য সুলতান উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কে বা কারা আমিরের পদত্যাগের গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে সঠিক বক্তব্য হলো, বর্তমান আমির মকবুল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে খুব অসুস্থ। তিনি কয়েকবার স্ট্রোক করেছেন। দলের দায়িত্বপালন তার পক্ষে সম্ভব না। সেজন্য তিনি দলকে জানিয়ে দিয়েছেন এক বছর পরে তার মেয়াদ শেষ হলে তিনি আর এ পদের জন্য প্রতিদ্ব›দ্বীতা করবেন না।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমিরের পদে প্রতি তিন বছর পর পর নির্বাচন হয়। সারা দেশের রোকনদের মধ্যে থেকে ৩ জনের একটি প্যানেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে থাকেন। এ তিনের যে কেউ রোকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমির নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এজন্য দলের একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও রয়েছে। তারা সারা দেশের রোকনদের ভোট কালেকশন করে ফলাফল ঘোষণা করেন। ওই প্যানেলের বাইরে যেকোনো রোকনকেও ভোট দিতে পারেন ভোটাররা।

বর্তমান আমির মকবুল আহমদের মেয়াদ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। সে হিসেবে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে নতুন আমিরের দায়িত্ব নেওয়ার কথা। আর নতুন আমির দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সর্বোচ্চ ফোরাম নির্বাহী পরিষদের পরামর্শক্রমে দলের সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ দেন আমির।

ছাত্রজীবন থেকেই মকবুল আহমদ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ করে ১৯৬২ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৬ সালে জামায়াতের রোকন (সদস্য) হন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি ফেনী শহর আমিরের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মহকুমা আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের শেষ দিকে তিনি বৃহত্তর নোয়াখালী জিলা আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ফেনী সদর ও সোনাগাজী নির্বাচনী এলাকায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ এলাকা থেকে অংশ নেন। মকবুল আহমদ ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
১৯৮৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৩ থেকে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১০ সালের জুনে দলের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মকবুল আহমাদ ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃতীয় আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সূত্র : সোনালীনিউজ