আফগানিস্তানের হয়ে আর খেলবেন না রশিদ-নবী

সন্নিকটে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ-২০১৯। এর মাস দেড়েক আগে অধিনায়ক পরিবর্তন করে সমালোচনার মুখে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন দুই তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান। আসন্ন বিশ্বকাপে দলের কাপ্তান হিসেবে আসগর আফগানকেই চান তারা।

নবী-রশিদের পক্ষে মত দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও। পাশাপাশি এসিবিকে তাদের হতাশ করতে বারণ করেছেন তিনি।

আফগানিস্তানের তিন ফরম্যাটেরই অধিনায়ক ছিলেন আসগর। তার অধীনে ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জিতেছে আফগানরা। ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে ক্রিকেট পরাশক্তিদের হারিয়েছে। সেই অভিজ্ঞ দলনায়ককেই বিশ্বকাপের আগে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন নির্বাচকেরা। তিন সংষ্করণের জন্য আলাদা অধিনায়ক বেছে নিয়েছেন তারা। টেস্টে রহমত শাহ, ওয়ানডেতে গুলবাদিন নাইব ও টি-টোয়েন্টিতে রশিদ খানের হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দিয়েছেন নির্বাচকমণ্ডলী।

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সফল ইংলিশ অধিনায়ক ভন। বিশ্বকাপের কিছুদিন আগে কিভাবে অধিনায়ক পাল্টানো যায়? ক্রিকবাজ লাইভে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভন বলেন, আসগরের অধীনে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছেন আফগানরা। তাকেই অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। আমি মনে করি, এটা একদম পাগলামি। আর নবী-রশিদ আফগানিস্তান ক্রিকেটের শুভেচ্ছাদূত। সারাবিশ্বে তারা আফগান ক্রিকেটকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের রাগাতে যাবেন না। এটাই আমার বার্তা। বোর্ডের ওপর ক্ষীপ্ত হলে তারা হয়তো দেশের হয়ে নাও খেলতে পারেন।

এর আগে টুইটারে এসিবির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নবী লেখেন, দলের সিনিয়র সদস্য ও আফগানিস্তান ক্রিকেটের বেড়ে ওঠার সাক্ষী হিসেবে আমি মনে করি, বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক বদলের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। আসগরের অধীনে সবাই খুবই ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমাদের নেতৃত্বে সে-ই সঠিক মানুষ।

রশিদও খোলামেলাভাবে বোর্ডের সমালোচনা করেন। এক টুইটে আসগরের পক্ষ নিয়ে তিনি লেখেন, নির্বাচক কমিটির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই আমি দৃঢ়ভাবে এ সিদ্ধান্তে অসম্মতি জানাচ্ছি। এটা দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতমূলক আচরণ।

মায়াবি লেগস্পিনার বলেন, আমাদের সামনে বিশ্বকাপের মতো শোপিস ইভেন্ট। আসগরেরই আমাদের অধিনায়ক থাকা উচিত। দলের সাফল্যে তার অধিনায়কত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিছুদিন পর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর। এর আগে অধিনায়ক পাল্টে অনিশ্চয়তা তৈরি করার কোনো মানেই হয় না। এটি দলের ক্রিকেটারদের মনোবলে আঘাত করতে পারে।