শেষ বিদায়েও মা-বাবার স্পর্শ পাচ্ছে না জায়ান

মা-বাবার সঙ্গে গিয়েছিল ভ্রমণে গিয়েছিলেন ছোট্ট শিশু জায়ান। কিন্তু ফিরল নিথর লাশ হয়ে। চিরপ্রস্থানের পথেও মা-বাবার স্পর্শ পাচ্ছে না জায়ান। কারণ বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে তার বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স। ছেলেকে শেষ দেখা দেখতে পারলেন না মশিউল। তার পাশে রয়েছেন সোনিয়া। তাই মাকে শ্রীলঙ্কা রেখেই জায়ান চৌধুরী আজ ফিরেছে নানাবাড়ি। তবে স্বাভাবিকভাবে নয়, ফিরেছে লাশ হয়ে।২১ এপ্রিল, রবিবার ইস্টার সানডেতে শ্রীলংকায় রেস্তোরাঁয় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হয় জায়ান চৌধুরী।

জায়ান চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি। সপরিবারে শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়েছিল সে। রবিবার ইস্টার সানডেতে বাবা-ছেলে সেখানকার সাংগ্রি লা হোটেলের নিচতলার রেস্তোরাঁয় সকালের নাশতা করতে গিয়ে বোমা হামলার শিকার হন। সেই সময় হোটেল কক্ষে থাকায় বেঁচে যান জায়ানের মা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া ও ছোট ভাই দেড় বছর বয়সী জোহান চৌধুরী।

২৪ এপ্রিল, বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ছোট্ট জায়ানের লাশবাহী গাড়ি বনানীতে শেখ সেলিমের বাসায় পৌঁছায়। আদরের নাতির লাশ বুঝে নেন নানা শেখ সেলিম। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শেষ বারের মতো জায়ানকে দেখতে বনানীতে শেখ সেলিমের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স আহত হয়ে শ্রীলঙ্কার স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মশিউলের অস্ত্রোপচার হয়েছে। শরীরে পাওয়া গেছে বোমার স্প্লিন্টার। পাকস্থলীতেও প্রচণ্ড চোট লেগেছে। ফলে গুরুতর আহত জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সকে এখনই দেশে ফেরানো যাচ্ছে না।